বিশেষ প্রতিনিধি
নরসিংদীতে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরঞ্জন কুমার রায় বর্তমানে নানা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সরকারি চাকরিতে যোগদানের পাঁচ মাস পরও তিনি সরকারি অফিস ভবন দখল করে সেখানে বসবাস করছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। বিষয়টি সরকারি কর্মচারীদের আচরণ বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলেই অভিহিত করেছেন প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা।
অভিযোগ রয়েছে, নিরঞ্জন কুমার রায় বরাদ্দপ্রাপ্ত সরকারি বাসা গ্রহণ না করে, নিয়ম বহির্ভূতভাবে অফিস কক্ষকেই বাসস্থানে রূপান্তর করেছেন। যদিও তিনি নিজে বলেছেন, “আমি গেস্ট হাউসে থাকতে পারি”, বাস্তবে সেই গেস্ট হাউস আদতে সরকারি অফিসের অংশ বলেই জানা গেছে।
এছাড়াও তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্য ভারতে বসবাস করেন, এমন তথ্যও উঠে এসেছে। যার প্রেক্ষিতে প্রশ্ন উঠেছে — এমন একজন ব্যক্তির পক্ষে বাংলাদেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দায়িত্ব পালন কতটা নিরাপদ? সংশ্লিষ্ট মহলে সন্দেহ দেখা দিয়েছে, তিনি ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’–এর এজেন্ট কি না। যদিও নিরঞ্জন কুমার রায় এ অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন।
আরেকটি গুরুতর অভিযোগ হলো, তিনি তার বরাদ্দকৃত সরকারি গাড়ির জ্বালানির একটি অংশ গোপনে বিক্রি করে দেন। যদিও তার ভাষ্য— “আমি তেল চুরি করে বিক্রি করব কেন? আমার কি তেল বিক্রি করে চলতে হবে?”—এই অভিযোগও তিনি সাফ অস্বীকার করেছেন।
তবে অভিযোগ উঠেছে, তার কথাবার্তাও বেশ অসংলগ্ন। কখনো দাবি করেন তিনি নরসিংদীতে ভাইয়ের বাসায় থাকেন, কখনো বলেন থাকেন ঢাকায়, আবার কখনো সরাসরি বলেন অফিসেই থাকেন। এ বিষয়ে পরিস্কার অবস্থান না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য যে, অতীতেও নরসিংদীর এক প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একই অফিস ভবনে বসবাস করে এক নারীর সাথে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছিলেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। ফলে অতীতের অভিজ্ঞতা এবং বর্তমান বাস্তবতা মিলিয়ে এলাকাবাসীর উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে।
এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। তারা মনে করেন, সরকারি অফিস এবং দায়িত্ব যেন ব্যক্তির আবেগ, আর্থিক স্বার্থ অথবা বিদেশি সংশ্লিষ্টতার ছায়ায় ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।