মতিউর রহমান চিশতী:
নরসিংদীতে জেলখানায় থাকার কথা থাকলেও এক প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার সাবেক বডিগার্ডের প্রকাশ্য ঠিকাদারি ও দাপট নিয়ে জনমনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে ডায়াবেটিস হাসপাতালের সামনে বানিয়াছল এলাকায় নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। জনরোষের মুখে বর্তমানে সেখানে কাজ বন্ধ করে দিয়েছে এলাকাবাসী।
ঘটনার নেপথ্যে:
অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির নাম আশরাফ উদ্দিন পাঠান। জানা গেছে, তিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর বডিগার্ড ও ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। ক্ষমতার পালাবদল হলেও কিছু অসাধু মানুষের যোগসাজশে তিনি বর্তমানে নরসিংদী পৌরসভায় লক্ষ লক্ষ টাকার ঠিকাদারি ভাগিয়ে নিয়েছেন।
নিম্নমানের কাজ ও এলাকাবাসীর প্রতিরোধ:
বানিয়াছল এলাকায় রাস্তার কাজে চরম নিম্নমানের ইট, বালু ও খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি:
পৌরসভার নিয়ম বহির্ভূতভাবে অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছিল।
এলাকাবাসী প্রতিবাদ করলে তাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়।
শেষ পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ বন্ধ করে দেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে প্রকৌশলীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বলে জানা গেছে।
সাংবাদিক নির্যাতন ও অতীত ইতিহাস
আশরাফ উদ্দিন পাঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় দীর্ঘ। আওয়ামী শাসনামলে অনিয়মের সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়ায় নরসিংদীতে দুই টিভি সাংবাদিককে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সেই সময় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ‘চাঁদাবাজি’র উল্টো অভিযোগ তুলে পার পেয়ে গিয়েছিলেন তিনি।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন:
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও প্রশাসনের ‘চোখে কাঠের চশমা’ আঁটা। যার স্থান হওয়ার কথা ছিল কারাগারে, তিনি কীভাবে প্রকাশ্য দাপট দেখিয়ে ঠিকাদারি করছেন এবং প্রশাসন তাকে কেন সহযোগিতা করছে—এ নিয়ে জনমনে তীব্র সমালোচনা চলছে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত এই নিম্নমানের কাজ বাতিল করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হোক এবং বিতর্কিত ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।