নরসিংদী প্রতিনিধি ঃ
নরসিংদীর সদ্য প্রত্যাহার হওয়া জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এলআর (লোকাল রিলেশন্স) ফান্ডের নামে অর্থ সংগ্রহ, এলএ শাখায় অগ্রিম ২০ শতাংশ গ্রহণ, রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং পারিবারিক ব্যয়ের নামে কুরিয়ার সার্ভিস থেকে বিপুল অঙ্কের কেনাকাটার অভিযোগ ঘিরে জেলাজুড়ে আলোচনা তুঙ্গে।
অভিযোগ রয়েছে, এলআর ফান্ডের নামে স্থানীয় ব্যবসায়ী, বিত্তশালী ব্যক্তি এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অনুদান বা চাঁদা হিসেবে অর্থ সংগ্রহ করা হলেও তা যথাযথ হিসাব ছাড়াই ব্যয় করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ সরকারি তহবিলে জমা না হয়ে তাঁর ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহৃত হয়েছে।
তা ছাড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এলএ শাখায় ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অগ্রিম ২০ শতাংশ অর্থ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর জড়িত থাকার কথাও ওঠে এসেছে।
জেলা প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ভাষ্য অনুযায়ী, জেলা প্রশাসকের সরকারি বাসভবনে নিয়মিত অনলাইন কেনাকাটার মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ১ থেকে দেড় লাখ টাকার পণ্য সরবরাহ করা হতো। এসব পণ্যের মধ্যে দামী পোশাক, প্রসাধনী ও গৃহসজ্জার সামগ্রী ছিল। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ‘ক্যাশ অন ডেলিভারি’ পদ্ধতিতে মূল্য পরিশোধ করা হতো।
ডেলিভারি কর্মীদের দাবি, প্রতিদিন গড়ে ৪-৫টি পার্সেল জেলা প্রশাসকের বাংলোয় পৌঁছাতো এবং সেখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি পণ্য গ্রহণ করে মূল্য পরিশোধ করতেন।
এদিকে, রাজনৈতিক অঙ্গনেও তার আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী অভিযোগ করেন, মনোনয়ন দাখিলের সময় তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়েছিল।
অন্যদিকে, এলএ শাখার কিছু কর্মকাণ্ড নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। একটি ঘটনায় এক প্রবাসীর সম্পত্তি সংক্রান্ত জটিলতা সৃষ্টি করে আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে এবং এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ ও সংবাদ সম্মেলনের কথাও জানা গেছে। এসব অনিয়ম দুর্নীতির সাথে জড়িত এল,এ শাখার অফিসার মুন্নি, সাইফুল, নাঈম, এবং কানুনগো।
নারায়নপুরের ইটালি প্রবাসী এক ব্যক্তির পুকুরকে ‘স’মিল দেখিয়েছে এবং ‘স’মিলকে পুকুর দেখিয়ে ৬৫ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন এল,এ শাখার অফিসার মুন্নি, সাইফুল ও একটি দালাল চক্র এ ব্যাপারে উল্লেখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
আনোয়ার হোসেন এর দুর্নীতি রহস্য উদঘাটনে দৈনিক জনতার দেশ মাঠ পর্যায়ে গোপনে কাজ করে যাচ্ছে।
সকল দুর্নীতিবাজ দের মুখোশ উন্মোচন করতে দৈনিক জনতার দেশ আপোষহীন।