মমতাজ খান:
প্রথমে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এমন অশ্লীল একটা ছবি পোস্ট করার জন্য। বিবেকের তাড়নায় লিখতে হচ্ছে তারপর ও।
ভারত হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হয়েও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় তাদের সুন্দরীদের শালীন পোশাক পরিয়ে পাঠায়।
পাকিস্তানও মুসলিম দেশ, তাদের প্রতিনিধির পোশাকেও থাকে নিজস্ব সংস্কৃতির পরিচয়—লেহেঙ্গা, কুর্তা, দুপাট্টা—যা দেখে বোঝা যায় তারা নিজেদের সংস্কৃতিকে শ্রদ্ধা করে।
কিন্তু বাংলাদেশ—যে দেশকে নিয়ে আমরা কিছু মানুষ মুখে বড় বড় কথা বলে “ইসলামি রাষ্ট্র”, “ধর্মীয় মূল্যবোধ”, “সংস্কৃতি”—
সেই দেশের প্রতিনিধিকেই দেখা যায় বিকিনি পরিয়ে পাঠানো হয় আন্তর্জাতিক মঞ্চে!
প্রশ্ন হলো—
এ কোন সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব?
বাঙালি নারীর ঐতিহ্য কি বিকিনি?
শাড়ি-সালোয়ার-ওড়না, নকশিকাঁথা, বাঙালিয়ানা—এসবই কোথায় গেল?
কেন শুধু বাংলাদেশই নিজের সংস্কৃতি তুলে ধরতে ভয় পায়?
যে দেশে লাখো মানুষ ধর্ম-সংস্কৃতি নিয়ে গলা ফাটায়,
সেই দেশের আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করে এমন একজন নারী,যিনি ২৪ ঘণ্টাই প্রায় বিকিনি সংস্কৃতি প্রচার করেন—
এটা কি বাংলাদেশের পরিচয়?
এটা কি বাঙালির ঐতিহ্য?
এটা কি এই দেশের মূল্যবোধ?
আরও বড় প্রশ্ন—
ভারত—যেখানে দেব-দেবীর মূর্তির দেশ বলা হয়—সেখানেও শালীন পোশাক!
পাকিস্তান—যেখানে কঠোর ধর্মীয় পরিবেশ—সেখানেও সাংস্কৃতিক পরিচয়!
তাহলে বাংলাদেশ কেন নিজের সংস্কৃতি দেখাতে লজ্জা পায়?
নাকি বিকিনি দেখালেই আধুনিকতা প্রমাণ হয়?
“আধুনিকতা” মানে কি নিজের শেকড় ভুলে যাওয়া?
“স্বাধীনতা” মানে কি সংস্কৃতি ধ্বংস করা?
“সাহস” মানে কি পোশাক কমানো?
তাই প্রশ্ন ওঠে—
বাংলাদেশের সুন্দরী প্রতিযোগিতায়
বাঙালি নারীর ঐতিহ্যবাহী পোশাক বাধ্যতামূলক করা হবে কি হবে না?নাকি আমরা শুধু বিদেশি কালচারের পিছনে দৌড়ে
নিজের দেশকে হাসির খোরাক বানিয়েই যাব?
এ দেশের মানুষ বোকা নয়—যে পোশাক বাঙালির সংস্কৃতি না, তাকে জোর করে “বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব” বলাটা মস্ত বড় ভণ্ডামি।কারা এসব
করাচ্ছে? এগুলো কে খুঁজে বের করা আমাদের নৈতিক দায়িত্বে পড়ে না ?