বিনোদন ডেক্স :
জীবন বড় কঠিন। একদিকে যেমন জীবনের একটা পর্বে মানুষ তুফানি আনন্দে ভেসে যায়, ঠিক তেমনিই আবার যখন খারাপ সময় আসে তখন একেবারেই দয়া দেখায় না। একজন বিখ্যাত অভিনেত্রী যখন নিজের কেরিয়ারের তুঙ্গে ছিলেন তখন ভাবতেও পারেননি তাঁর সঙ্গে জীবন এত বড় খেলা খেলতে পারে। একটা সময় তাঁর আর্থিক অবস্থা এমন হয়ে ওঠে প্রতিটি পয়সার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে, তখন তাঁকে দেহ ব্যবসায় নামতে হয়েছিল। পরিস্থিতি এমন ছিল যে মৃত্যুর পরেও যন্ত্রণা কমেনি। শেষ মুহূর্তে, অভিনেত্রীকে যখন উদ্ধার করা হয় তখন তাঁর শরীরে পোকামাকড় কুরেকুরে খাচ্ছিল৷ তার সারা শরীরে পিঁপড় বাইছিল। এতটাই নারকীয় অবস্থায় দেহ পড়েছিল যে মৃতদেহ দেখেও লোকে চলে যাচ্ছিল৷
জীবন বড় কঠিন। একদিকে যেমন জীবনের একটা পর্বে মানুষ তুফানি আনন্দে ভেসে যায়, ঠিক তেমনিই আবার যখন খারাপ সময় আসে তখন একেবারেই দয়া দেখায় না। একজন বিখ্যাত অভিনেত্রী যখন নিজের কেরিয়ারের তুঙ্গে ছিলেন তখন ভাবতেও পারেননি তাঁর সঙ্গে জীবন এত বড় খেলা খেলতে পারে। একটা সময় তাঁর আর্থিক অবস্থা এমন হয়ে ওঠে প্রতিটি পয়সার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে, তখন তাঁকে দেহ ব্যবসায় নামতে হয়েছিল। পরিস্থিতি এমন ছিল যে মৃত্যুর পরেও যন্ত্রণা কমেনি। শেষ মুহূর্তে, অভিনেত্রীকে যখন উদ্ধার করা হয় তখন তাঁর শরীরে পোকামাকড় কুরেকুরে খাচ্ছিল৷ তার সারা শরীরে পিঁপড় বাইছিল। এতটাই নারকীয় অবস্থায় দেহ পড়েছিল যে মৃতদেহ দেখেও লোকে চলে যাচ্ছিল৷
তিনি কোনও ছোট অভিনেত্রী ছিলেন না বরং একজন বিখ্যাত দক্ষিণী নায়িকা ছিলেন যিনি দক্ষিণের সবচেয়ে বড় সুপারস্টার রজনীকান্ত এবং কমল হাসানের সঙ্গেও কাজ করেছিলেন। তিনি দুজনের সাথেই এমন ছবি উপহার দিয়েছিলেন যে সবাই তার উজ্জ্বল মুখ এবং প্রতিভার প্রশংসা করতে ক্লান্ত হয়নি। কিন্তু একটা সময় এসেছিল যখন সে কাজ পাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল।
এই নায়িকার নাম ছিল নিশা নূর, যিনি দক্ষিণের সিনেমায় প্রচুর খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের চাকা এমনভাবে ঘুরিয়েছিল যে তিনি কাজের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন এবং জীবিকা নির্বাহের জন্য পতিতাবৃত্তির জলাভূমিতে প্রবেশ করেন। এই ব্যবসায় কোনও ফুল ছিল না.. ছিল কেবল কাঁটা।
দেহ ব্যবসায় নামার পর শরীরে এর প্রভাব পড়ে৷ এইডসের শিকার হওয়ায় নিশা নূরের জীবনে আরেকটি বড় ধাক্কা লাগে। এই পেশার পর অসুস্থতার তার নিত্যসঙ্গী হয়ে যায়৷ বন্ধুবান্ধব এবং অপরিচিত সকলেই তাকে ছেড়ে চলে যায়। তাঁর নিজের পরিবারই সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করে তাঁকে নরকে বাস করতে ছেড়ে দিয়ে চলে যায়৷
নিশা নূর ১৯৮০ সালে তামিল ছবি ‘মঙ্গলা নায়াগি’ দিয়ে তাঁর কেরিয়ার শুরু করেন। এরপর তিনি ৫ বছর ধরে ‘টিক টিক টিক’, ‘আইয়ার দ্য গ্রেট’, ‘চুভাপ্পু নাদা’, ‘মিমিক্স অ্যাকশন ৫০০’, ‘ইনিমাই ইধো ইধো’-এর মতো ছবিতে কাজ করেন। নিশা ১৯৮০ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত ইন্ডাস্ট্রিতে রাজত্ব করেছিলেন। এই সময়ে, তিনি দক্ষিণের কিংবদন্তি পরিচালক কে. বালাচন্দর, ভিসু এবং চন্দ্রশেখরের সঙ্গেও কাজ করেছিলেন।
কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর, ইন্ডাস্ট্রিতে নিশা নূরের খ্যাতি ম্লান হতে শুরু করে। তারপর নব্বইয়ের দশকে, তিনি কাজের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। বছরের পর বছর ধরে নিশা বিলাসবহুল জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিল। এখন টাকা না থাকা তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন পর্যায়ে পরিণত হয়েছিল।এক প্রযোজক নিশাকে জীবন ধ্বংসকারী পরামর্শ দেন। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, যখন নিশা নূর কাজ এবং অর্থের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন, তখন একজন প্রযোজক তাঁকে পতিতাবৃত্তিতে যাওয়ার পরামর্শ দেন এবং এই পেশায় প্রচুর সম্পদের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে প্রলুব্ধ করেন। এরপর নিশা জীবনে ক্রমশ তলিয়ে গেছে৷ চোরাবালিতে যেরকম মানুষের পা আটকে যায় ঠিক তেমনিই পতিতাবৃত্তির এই চোরাবালিতে এডসের মতো মারণ রোগে আক্রান্ত হন তিনি৷
সংবাদমাধ্যমের খবর অনুসারে, ২০০৭ সালে একটি দরগার বাইরে নিশা নূরকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁর শরীরে প্রায় কাপড়ই ছিল না এবং গোটা শরীর পোকামাকড় কুরেকুরে খাচ্ছিল৷ তাঁর শরীরে পোকামাকড় হামাগুড়ি দিচ্ছিল এবং তার শরীর কঙ্কালের মতো হয়ে গিয়েছিল। তাঁর শরীরে কোন মাংস অবশিষ্ট ছিল না। তিনি এক সপ্তাহও বাঁচতে পারেননি এবং ২০০৭ সালে চেন্নাইয়ের তাম্বারামে মারা যান।
তথ্যসূত্র 👉News18বাংলা