ডিআইজি পদোন্নতিতে বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রাধান্য,এসএসবি’র সুপারিশ নিয়ে পুলিশ বাহিনীতে অসন্তোষ।
Reporter Name
/ ১১৭
Time View
Update :
মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২৫
Share
স্টাফ রিপোর্টার :
পুলিশের ডিআইজি উপ মহাপরিদর্শক পদে পদোন্নতির জন্য ৩৪ জন কর্মকর্তার ব্যাপারে সুপারিশ করেছে সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ড (এসএসবি)। গত বৃহস্পতিবার রাতে অনুষ্ঠিত এসএসবির সভায় এর সুপারিশ চূড়ান্ত করা হয়। তবে পদোন্নতির এ তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই পুলিশ প্রশাসনে অসন্তোষ বিরাজ করছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ উঠেছে বিগত সরকারের সময়ে সুবিধা ভোগী ও বিতর্কিত কর্মকর্তাদের
এ তালিকায় প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে অন্যদিকে বঞ্চিত করা হয়েছে ২১ তম ব্যাচের দীর্ঘদিনের বঞ্চিত যোগ্য ও মেধাবী কর্মকর্তাদের। জানা গেছে সুপারিশ করা ৩৪ জনের মধ্যে ২৭ জনই ২০তম ব্যাচের কর্মকর্তা বাকি সাতজন ১৫ ও ১৭ তম ব্যাচের কর্মকর্তা। অভিযোগ রয়েছে ২০ তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের অনেকেই বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে বিরোধীদল দমনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। বঞ্চিত ও ক্ষুব্ধ কর্মকর্তাদের দাবি,২০তম ব্যাচের কর্মকর্তারা বিগত সরকারের সময়ে নজিরবিহীন সুবিধা ভোগ করেছেন। পুলিশ প্রশাসনে গুঞ্জন রয়েছে, ২০১১ সালে জ্যেষ্ঠতা লংঘন করে ১৫,১৭, ও ১৮ ব্যাচের দুইশতাধিক কর্মকর্তাকে ডিঙ্গিয়ে তারা (এসপি)পুলিশ সুপার হয়েছিলেন। ২০২২ সালের এর মধ্যে তাদের অনেকেই অতিরিক্ত ডিআইজি ও ডিআইজি পদে আসীন হন।অভিযোগ রয়েছে, অনেক কর্মকর্তাই ডিবি হারুন হিসেবে পরিচিত হারুনুর রশিদ, বিপ্লব ও মোল্লা নজরুলের মত বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন এবং “পুলিশ লীগ”প্রতিষ্ঠায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকার রেখেছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ডিআইডি পদে পদোন্নতির জন্য ২০ তম ব্যাচের পাশাপাশি ২১তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের নামও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রস্তাব করা হয়েছিল। কয়েক মাস আগে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ১০৩ জন কর্মকর্তার নাম পাঠানো হয় পরে ২১ তম ব্যাচের বেশ কয়েকজন মেধাবী ও বিগত সময়ে নিগৃহীত কর্মকর্তাকে বিবেচনায় নিয়ে ৪৯ জনের একটি সম্পূরক প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে ২১ তম ব্যাচে এমন কর্মকর্তা রয়েছেন যারা আওয়ামী লীগ আমলে কোন ধরনের প্রমোশন পাননি তারা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হয়েই চাকরি করতে বাধ্য হয়েছিলেন। শুধু তাই নয় বদলি স্বরূপ কিছুদিন পর পর তাদের ঢাকার বাইরে বিভিন্ন ডাম্পিং স্হানে বদলি করা হতো।তারা নিয়মিত ছুটি পেতেন না পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য। অথচ মুজিববাদী ব্যাচমেটরা পুলিশ বাহিনীতে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় ছিল। সেই বঞ্চিত মজলুম কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে গত ২০ নভেম্বর মাত্র দুই ঘন্টার নোটিশে তড়িঘড়ি করে এসএসবি সভা ডেকে ২০ তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের নাম সুপারিশ করা হয়। এরমধ্যে বিতর্কিত ও ফ্যাসিস্ট সরকারের সুবিধা ভোগী কর্মকর্তাদের নাম থাকায় পুলিশের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। জানা গেছে ২১ তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের দুর্নীতি দমন কমিশনের ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হয়েছিল এবং এনএসআই এর তদন্ত রিপোর্ট ও শেষ পর্যায়ে ছিল।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,সামনে জাতীয় নির্বাচন এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিগত ফ্যাসিষ্ট সরকারের ধূসর হিসেবে পরিচিত কর্মকর্তাদের ডিআইজি পদে বসানো নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নষ্ট করার একটি নীল নকশা হতে পারে।তারা আরো বলেন,সুপারিশ প্রাপ্ত ২০ তম ব্যাচের অন্তত ২৩ জন কর্মকর্তা বিগত সরকারের আমলে বিভিন্ন জেলার এসপি, ডিএমপি ও মেট্রোপলিটন শহরের ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে বিএনপি জামায়াত সহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর দমন-নিপীড়ন এবং তৎকালীন প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম ও হাবিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ থাকার অভিযোগ রয়েছে। এমনি তারা বিগত সরকারের গুণ গান গেয়ে কবিতা গান লিখেও তোষামোদ করেছেন। বঞ্চিতদের দাবি সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পরও ২১ তম ব্যাচ কে বাদ দেওয়া উদ্দেশ্য প্রণোদিত।এ সুপারিশের ফলে পুলিশ প্রশাসনের চেইন অব কমান্ড এবং অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তাই বর্তমান তালিকা বাতিল করে ২১ তম ব্যাচের যোগ্য, মেধাবী এবং বিগত সময়ে বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করে নতুন করে সুপারিশ করা হোক।
এ বিষয়ে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এহসানুল হকের মোবাইলে যোগাযোগ করলেও সাড়া পাওয়া যায়নি এমন কি খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোন উত্তর মেলেনি।
তথ্যসূত্র :
দৈনিক আমার দেশ।