মো: মাহবুবুর রহমান খান:প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বলে খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৮ তম ডাকসু নির্বাচনের ভোট গণনা কালে উত্তেজনা পরিলক্ষিত হয়। সারাদিনের ভোট গ্রহণে কোন সংঘাত বা বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে ক্রস চিহ্ন ব্যালট সরবরাহের অভিযোগে দুপুরের দিকে কিছুটা হট্টগোল দেখা যায়। এর বাইরে দুই একটি কেন্দ্রে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার খবর পাওয়া যায়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতীত্বের অভিযোগ ওঠে। জরুরী সংবাদ সম্মেলনে ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান অভিযোগ করেন, নির্বাচন যেমন আশা করেছিলাম তেমন হয়নি। কারচুপির চেষ্টা হলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রতিরোধ করবে। অপরদিকে ভোট বানচাল করার জন্য বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে অভিযোগ করে ছাত্র শিবিরের ভিপি প্রার্থী সাদিকাইম বলেন, নির্বাচন বাঞ্চালের জন্য যারা ষড়যন্ত্র করছে তাদের রুখে দিতে হবে। যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করবে তাদের পরিণতি খুনি হাসিনা ও ছাত্রলীগের মত হবে। ডাবির উপাচার্য ড. নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। বাইরের একটি উত্তেজনার খবর আমাদের কাছে এসেছিল এই সময়ে বাইরের উস্কানি আমাদের জন্য অত্যন্ত বিপদজনক।আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। প্রতিটি প্রবেশপথে আমাদের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়োজিত রয়েছেন। তবে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ভিত্তিহীন। গতকাল সকাল ৮ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত ৮টি কেন্দ্রে ৮১০টি বুথে বিরতিহীনভাবে ডাকসু ও হল সংসদের ভোট গ্রহণ করা হয়। এই নির্বাচনে ২৮ টি পদে ৪৭১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাদের মধ্যে ভিপি প্রার্থী ছিলেন ৪৫ জন এবং জিএস প্রার্থী ছিলেন ১৯ জন। দেশের মিনি পার্লামেন্ট খ্যাত ডাকসুর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জনমনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়। সংসদ নির্বাচনের আগে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ এক ছাত্র সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর ও বিশেষ নজর ছিল। নির্বাচন নিয়ে এক ধরনের শংকা তৈরি হলেও কোন অঘটন ঘটেনি।আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতা দেখা যায়। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তায় সেনাবাহিনী মাঠে থাকলেও নির্বাচনে তারা কোন ভূমিকা রাখেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে সেনা মোতায়েনের কথা বললেও শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মুখে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে
সেনাবাহিনী। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দায়িত্ব পালন না করার কথা জানানো হয়। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এবার মোট ভোটার ছিল ৩৯ হাজার ৮৭৪ জন। এর মধ্যে ছাত্রী ভোটার ১৮ হাজার ৯৫৯ এবং ছাত্র ২০৯১৫ ডাকসুর ও হল সংসদ মিলে মোট পদের সংখ্যা ছিল ৪১টি। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় সংসদে ২৮ টি হল সংসদে ১৩ টি। কেন্দ্রীয় সংসদে ২৮ টি পদের বিপরীতে প্রার্থী ছিলেন ৪৭১ জন।
কোন কেন্দ্র কত ভোট:নির্বাচনে ৭৮.৩৩ শতাংশ ভোট পড়েছে ছাত্র হল গুলোর তুলনায় ছাত্রী হলে ভোটের হার কম ছিল। কর্মকর্তাদের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী কার্জন হল কেন্দ্রে ৮০ শতাংশের বেশি শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রে ৮৩ পিএসসি কেন্দ্রে ৬৯ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব কেন্দ্রে ৬৭ উদয়ন স্কুল কেন্দ্রে ৮৪-৮৫, ভূতত্ত্ব বিভাগ কেন্দ্রে ৬৫ এবং ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি কেন্দ্রে ৪৩ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। হল গুলোর মধ্যে শহীদুল্লাহ হলে ৮০ দশমিক ২৪ শতাংশ অমর একুশে হলে ৮৩.৩০ শতাংশ ফজলুল হক মুসলিম হলে ৮২ দশমিক ৪৪ শতাংশ শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে ৮৪ দশমিক ৫৬ শতাংশ সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে ৮৩ শতাংশ,
বেগম রোকেয়া হলে ৬৫ দশমিক ৫০ শতাংশ, বাংলাদেশ কুয়েত মন্ত্রী হলে ৬৮ দশমিক ৩৯শতাংশ, বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে ৬৭দশমিক৮ শতাংশ, স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে ৮৩
শতাংশ স্যার এফ রহমান হলে ৮২.৫০ শতাংশ, হাজি মোহাম্মদ মহসিন হলে ৮৩ দশমিক-৩৭ শতাংশ, বিজয় একাত্তর হলে ৮৫.০২ শতাংশ মাস্টারদা সূর্যসেন হলে ৮৮ শতাংশ, শহীদ জিয়াউর রহমান হলে ৭৫ শতাংশ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে ৮৭ শতাংশ
কবি জসীমউদ্দীন হলে ৮৬
শতাংশ বেগম সুফিয়া কামাল হলে ৬৪ শতাংশ এবংবেগম সামসুন নাহার হলে ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ ভোট
পড়েছে বলে জানা গেছে।
এক ভোটারকে দুই ব্যালট ব্যবহারের দায়ে পোলিং অফিসার কে অব্যাহতি : নির্বাচনে অমর একুশে হলের একটি বুথে আগে থেকেই পূরণ করা একটি ব্যালট পেপার দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায় পেপারটি ছিল হল সংসদে। বিষয়টি অনিচ্ছাকৃত বলে দাবি করা হয়। অবশ্য নির্বাচন কমিশন ওই পুলিং অফিসার কে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়। কেন্দ্র পরিদর্শনকালে উপাচার্য নিয়াজ আহমেদ খান সাংবাদিকদের বলেন, কার্জন হলে ভুলক্রমে একটি ছোট সমস্যা হয়েছে। তার জন্য আমরা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিয়েছি। তবুও এ ঘটনায় আমরা পুনরায় তদন্ত করে কেউ জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেব।
এজেন্ট বের করে দেওয়ার অভিযোগ :উদয়ন স্কুল কেন্দ্র থেকে পুলিং এজেন্টকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ইসলামী ছাত্র আন্দোলন প্যানেলের প্রার্থী খাইরুল হাসান। এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে ঢাবি ভিসি বলেন, ঘটনার সাথে সাথে আমরা পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলে আইন-শৃঙ্খলা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য বাড়ানোর ব্যবস্থা করেছি। সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর রেখেছি। প্রয়োজনে আমরা পুলিশের সঙ্গে আবার কথা বলব তারা নিরাপত্তা বাড়িয়েছে কী,না। প্রশাসনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ নিয়ে উপাচার্য বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কখনো সম্পৃক্ত ছিলাম না রাজনৈতিক দলের প্রতি আমার কোন আগ্রহ নেই। তবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য যেকোনো মতামত আমি সাদরে গ্রহণ করব। নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ প্রসঙ্গে উপাচার্য আরো বলেন, সারাদিন গণমাধ্যমের সদস্যরা ছিলেন তারা বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রবেশ করেছেন, পরিস্থিতি দেখেছেন কোথাও অনিয়মের অভিযোগ উঠলে আমরা দ্রুততার সঙ্গে ব্যবস্থা নিয়েছি এখন ভোট গণনা চিত্র বাইরে দেখানো হবে সুতরাং নির্বাচনে কারচুপির কোন সুযোগ নেই।
ডাকসু নির্বাচন কে ঘিরে এখন জামায়াত- শিবির রাজনৈতিক দলের পক্ষ পাতিত্ব, বিশ্ববিদ্যালয় ভিসির দায়িত্ব হীনতা এবং নির্বাচন
কমিশনের স্বেচ্ছাচারিতা নিয়ে পরাজিত দলের প্রার্থীরা এই প্রহসন
মূলক নির্বাচন বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। জুলাই যোদ্ধাদের এই
আন্দোলন কোন পথ মোড় নেবে এক মাত্র রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি বর্গ ই সঠিক ব্যাখা দিতে পারবেন।
প্রতিবেদক-
সম্পাদক- প্রকাশক
দৈনিক জনতার দেশ
ও জনতার দেশ টিভি।
তথ্য সূত্র: দৈনিক আমার দেশ।
দৈনিক নয়াদিগন্ত।
দৈনিক সংগ্রাম।