শিরোনাম :
আমেরিকা-ইসরাইলী আগ্রাসনে নিহত মুসলিম বিশ্বের শীর্ষ নেতা গণ এর তালিকা। সন্ত্রাস চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে নতুন আইজিপির জিরো টলারেন্স নীতি। বিখ্যাত গিটারিস্ট কাজী অনিরুদ্ধ এবং কিছু স্মৃতিচারণ। ডিসি অফিস এলাকা থেকে ২২ মামলার আসামি ‘মাদক সম্রাট’ জসিম গ্রেপ্তার। নরসিংদীতে আলোচিত মিজান মিয়া ওরফে হৃদয় হত্যা মামলার প্রধান আসামী গ্রেফতার। সেহরির পরপরই সং/ঘ/র্ষে জড়ালো দুই গ্রুপ, বাবা ছেলেসহ প্রাণ গেল ৪ জনের। বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক ক্যাপ্টেন এহতেশাম এবং তার চলচ্চিত্র জীবন। বিখ্যাত চলচ্চিত্রাভিনেত্রী সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় এর অজানা তথ্য। শিক্ষা মন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের শিক্ষাগত যোগ্যতা। মন্ত্রী পরিবারের সন্তান এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামানত হারালেন।
বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ন

ট্রেনে প্রতিনিয়ত অনিয়ম দুর্নীতির কারণে সরকার কে বছরে কোটি কোটি টাকা লোকসান গুণতে হচ্ছে—তারিকুল ইসলাম,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (বাঞ্ছারামপুর)।

Reporter Name / ৫৬ Time View
Update : শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার (একজন ট্রেন যাত্রীর মুখ নিঃসৃত জবানবন্দি)

উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে যোগদান করার জন্য ঢাকা থেকে ট্রেনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে মহানগর প্রভাতী ট্রেনে যাত্রা শুরু করলাম। কমলাপুর স্টেশন থেকে ট্রেনের এসি বগিতে উঠে নির্ধারিত সিটে বসতেই মনে হলো, যাত্রাটা বেশ আরামদায়ক হবে।
কিছুক্ষণ পর আমার পাশের সিটে একজন রেলওয়ে পুলিশের সদস্য এসে বসলেন। কথায় কথায় জানলাম, তিনিও ব্রাহ্মণবাড়িয়া যাবেন। তিনি বললেন, সাধারণত তারা খাবার বগিতে বসেন, কিন্তু আজ ট্রেনের এসি বগিতে নাকি শতাধিক সিট খালি রয়েছে, তাই এখানেই বসেছেন।

ট্রেনে ওঠার কিছুক্ষণের মধ্যেই লক্ষ্য করলাম, একজন গার্ড টাইপের ভদ্রলোক বগিতে ঘোরাঘুরি করছেন। তিনি দুই তিনজন করে লোক এনে বিভিন্ন সিটে বসিয়ে দিচ্ছেন। প্রথমে বিষয়টিকে স্বাভাবিক মনে হলেও, মাত্র দশ থেকে পনেরো মিনিটের মধ্যেই পুরো এসি বগি ভরে গেল। অথচ কিছুক্ষণ আগেও যেখানে অসংখ্য সিট খালি ছিল।

পাশের পুলিশ সদস্যটি জানালেন, এদের সবাই টিকিট না কিনে একটু কম টাকায় গার্ডকে ম্যানেজ করে ভ্রমণ করছে। বিষয়টি বোঝাতে তিনি তার মোবাইলে রেলওয়ের অ্যাপ ওপেন করে দেখালেন যে এখনো একশটিরও বেশি এসি টিকিট অবিক্রীত অবস্থায় রয়েছে।

এক পর্যায়ে ওয়াশরুমে যাওয়ার জন্য উঠলাম। যাওয়ার পথে দেখি, ওয়াশরুমের আশেপাশে অনেক লোক বসে আছে। আরও বিস্মিত হলাম যখন দেখলাম, সেই একই গার্ড তাদের কাছ থেকেও টাকা সংগ্রহ করছেন।

কিছুক্ষণ পর তিন চারজন লোক টিকিট চেক করতে এলো। তাদের সঙ্গেও ছিলেন সেই গার্ড। লক্ষ্য করলাম, তারা শুধু যাদের হাতে বৈধ টিকিট আছে তাদেরই চেক করছে। কিন্তু যাদের গার্ড নিজ হাতে বসিয়ে দিয়েছেন এবং যাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন, তাদের কাউকেই কোনো প্রশ্ন করা হলো না।

তখন আর বুঝতে বাকি রইল না যে এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে ট্রেনের দায়িত্বপ্রাপ্ত একাধিক ব্যক্তি জড়িত। টাকার ভাগ সবাই পায় বলেই এমন নির্ভয়ে সবকিছু চলছে। সরকার যেখানে বৈধ টিকিটের মাধ্যমে রাজস্ব পাওয়ার কথা, সেখানে সেই অর্থ চলে যাচ্ছে কিছু অসাধু লোকের পকেটে।
ভাবতে কষ্ট হচ্ছিল, প্রতিদিন যদি এভাবে হাজার হাজার টাকা লোপাট হয়, তাহলে রেলওয়ে লোকসানে যাবে না তো কী করবে।

এই ঘটনাই যেন আমাদের দেশের একটি বৃহৎ বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। শুধু রেললাইন নয়, সরকারি প্রায় প্রতিটি সেক্টরেই এমন দুর্নীতির চিত্র দেখা যায়। যতদিন এসব দুর্নীতিবাজকে নির্মূল করা যাবে না, ততদিন দেশের প্রকৃত উন্নয়ন অসম্ভব।

কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, দুর্নীতিবাজদের সংখ্যা এত বেশি যে সৎ মানুষদের টিকে থাকাই দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে।

বি.দ্র.

লিখাটি ইউনও, উপজেলা প্রশাসন বাঞ্ছারামপুর জনাব তারিকুল ইসলাম এর ওয়াল থেকে নেয়া। এটা উনার বাস্তব অভিজ্ঞতা। প্রকৃতপক্ষে ঘটছেও তাই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category