শিরোনাম :
বাউফলে গণকবরস্থানে চাঁদা চেয়ে হামলা, প্রশাসনের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবীর অভিযোগ। সাবেক ডিজিএফআই এর মহাপরিচালক জেনারেল আকবর এবং এস এসএফ প্রধান লে. জেনারেল মুজিবুর রহমান এখন ভারতে মোদির আশ্রয়ে। জিয়া পরিবারের চার দশকের ঠিকানা হারানোর পেছনে তৎকালীন সেনাপ্রধান মুবীন। আজ ১২ জানুয়ারি বিপ্লবী যোদ্ধা মাস্টার দা সূর্য সেন এর প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলী। ইমাম খোমেনি ও আমেরিকার গুঁটিচাল। সম্রাট বাবরের পরাজয় এবং শানে শাহ ওবায়দুল্লাহ আহরার (রহঃ)। এক যে ছিল নেতা–দেবারতী মুখোপাধ্যায়। রাজনীতির রহস্য মানব সিরাজুল আলম খান। ভোলায় ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে বন্ধুর হাতে বন্ধু খুন। গ্যাস সংকটে জ্বলছে না চুলা।  সিলিন্ডার ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি ভোক্তাগণ।  এটি ভোক্তাদের সঙ্গে সরাসরি প্রতারণা —-ক্যাব সভাপতি। 
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:১০ পূর্বাহ্ন

জাতীয় নির্বাচন কে ঘিরে আন্ডার ওয়ার্ল্ড কানেকশন সক্রীয় হয়ে ওঠেছে।

Reporter Name / ৭০ Time View
Update : সোমবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২৫

  • স্টাফ রিপোর্টার :
  •  ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকার মিরপুর সহ বিভিন্ন জায়গায় রাস্তায়  প্রকাশ্যে খুন, চট্টগ্রামে নির্বাচনী প্রচারের মধ্যেই গুলির ঘটনায় ;এমন এক সংগঠিত অপরাধ চক্রের  উত্তান দেখা যাচ্ছে। যাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে আধুনিক অস্ত্র, কিশোর-তরুন সমন্বিত সমৃদ্ধ গ্যাং নেটওয়ার্ক এবং বিদেশ থেকে পরিচালিত ভার্চুয়াল কমান্ড রুম। নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এবং পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী কিছু গ্যাং, রাজনৈতিক নেতা, শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ সঙ্গে গোপন যোগাযোগ রাখছে।তাদের  উদ্দেশ্য, নির্বাচনের আগে সার্বিকভাবে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করা,এলাকায় ভীতিকর  পরিবেশ সৃষ্টি করা এবং অপরাধচক্র কে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে সর্বোপরি টাকা কামানোর নিরবচ্ছিন্ন পরিবেশ তৈরি করা।
    নিরাপত্তা সূত্রগুলো বলছে, কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া গ্যাং নেতা, বিদেশে গা ঢাকা দেওয়া অপরাধীরা আবার তাদের চক্র গঠন করছে।এন ক্রিপটেড অ্যাপ আন্তর্জাতিক ফোন নাম্বার, হুন্ডি নেটওয়ার্ক ও ভার্চুয়াল রুম  ব্যবহার করে তাদের অনুসারীদের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখছে। অনেক ক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতার বলয় তৈরি করার মাধ্যমে নির্বাচনী ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা তাদের রয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র বলছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কিন্তু মাঠ পর্যায়ের শান্তি বজায় রাখতে তাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এমন একটি অদৃশ্য রাজনৈতিক অপরাধী নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা যেটি নির্বাচনকে  প্রভাবিত করার ক্ষমতা রাখে।
    কারণ হিসাবে দেখা যাচ্ছে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রাজধানী ঢাকায় বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার আশীর্বাদ রয়েছে আন্ডারওয়ার্ল্ড মাফিয়া দের উপর। এটি একটি বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ে নিয়মিত রিপোর্ট করা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
    গত দুই  সপ্তাহে ঢাকায় যেসব হত্যাকাণ্ড ঘটেছে সে গুলো আন্ডার  ওয়ার্ল্ডের ভয়াবহতাকে নতুন করে সামনে এনেছে। গত ১০ নভেম্বর ঢাকার ব্যস্ততম আদালত এলাকার মাত্র কয়েক গজ দূরে দিন দুপুরে গুলি করে হত্যা করা হয় সন্ত্রাসী ও চিত্র নায়ক সোহেল চৌধুরী  হত্যা মামলার আসামি তারিক সাইফ মামুনকে। আদালত পারার মত নিরাপত্তা জনিত স্থানে এমন প্রকাশ্য হত্যাকান্ড আন্ডার ওয়ার্ল্ডের দু:সাহস কে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। এর মূল পরিকল্পনাকারী আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী রনি,যিনি সানজিদুল ইসলাম ইমনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং যাকে ডিবি পুলিশ এখন  ঢাকার অপরাধ জগতের নতুন ত্রাস হিসাবে চিহ্নিত করেছে। সন্ত্রাসী রনি প্রথমে মুদি দোকানী এবং পরে ডিস ব্যবসায়ী হিসেবে কাজ করলেও কারাগারে থাকা ইমনের মাধ্যমে অপরাধচক্রের একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করে দ্রুত পরিচিতি পান। ভাড়াটে খুনি ব্যবহার করে এই হত্যাকান্ড ঘটানো হয়েছে বলে জানা গেছে। আগামী নির্বাচনকে ঘিরে এই অপতোৎপরতা আরো বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
    আন্ডার ওয়ার্ল্ড এর পুনরুত্থান :
    রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া বা বিদেশে লুকিয়ে থাকা বহু কুখ্যাত সন্ত্রাসী আবারও দৃশ্যমান হয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও বড় শহরগুলোতে। কিলার আব্বাস,সানজিদুল ইসলাম ইমন, সুইডেন আসলাম, মোল্লা মাসুদ, টোকাই সাগর, সাজ্জাদ এসব নাম আবারও আলোচনায় ওঠে এসেছে।
    নিরাপত্তা সূত্রে জানা গেছে, এদের কেউ কারাগার থেকে কেউ বিদেশ থেকে এনক্রিপটেড প্লাটফর্মের মাধ্যমে তাদের নেটওয়ার্ককে চাঁদাবাজি, এলাকা দখল, টার্গেট কিলিং, ঠিকাদারী নিয়ন্ত্রণ, মাদক ব্যবসা সহ নানা অপারেশন অনলাইনে পরিচালিত হচ্ছে। ধানমন্ডি, হাজারীবাগ, নিউমার্কেট, কলাবাগান, মোহাম্মদপুর মিরপুর সহ শীর্ষ  সন্ত্রাসী ইমনের নামে চাঁদাবাজি  ও দিন দিন বাড়ছে। ইংল্যান্ড ও মধ্যপ্রাচ্যের কোড যুক্ত নম্বর থেকে ফোন করে  হমকি সহ চাঁদার অংক নির্ধারণ করা হচ্ছে।  তবে এমন বার্তা পেয়ে আতঙ্কিত ভুক্তভোগীরা থানায় জিডি করছেন। হাজারীবাগে নির্মাণাধীন ভবনে ভয়ংকর অস্ত্রের মহড়া, ফাঁকা গুলি ছোড়া  এবং বিদেশী নম্বর থেকে  ফোন আতংকে এলাকাবাসী। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা   বলছেন, এসব কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্য হলো নির্বাচনের আগে এলাকার নিয়ন্ত্রণ দেখানো এবং চাঁদাবাজির অংক বাড়ানো। তবে নির্বাচনের দিন তারিখ যত ঘনিয়ে আসবে নির্বাচনি এলাকার আধিপত্য বিস্তার কে কেন্দ্র করে সহিংসতা ব্যাপক বৃদ্ধি পাবে।
    নির্বাচন মৌসুমে  রাজনৈতিক নেতারা এলাকা দখলে
    নিতে এখন শীর্ষ সন্ত্রাসীদের শরণাপন্ন হচ্ছেন বলে রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
  • তথ্য সূত্র:
  • দৈনিক আমার দেশ
  • ডেইলি স্টার,বাংলা
  • বিডি নিউজ টুয়েন্টি ফোর ডটকম


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category