◊
সোহাগ কুমার বিশ্বাস (চট্টগ্রাম থেকে):
চট্টগ্রাম বন্দরের লাল দিয়া টার্মিনাল অপারেশন এর দায়িত্ব পেয়েছে ড্যানিশ জায়ান্ট কোম্পানি মুলার মায়ের্স্ক গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এপিএমটি টার্মিনালস।পানগাঁও আর পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনালের (পিসিটি) মতোই এখান থেকেও কমিশন যাবে শেখ পরিবারের কাছে। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের নেওয়া একের পর এক টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া বর্তমান সরকারও অব্যাহত রেখেছে। বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো সরকারের উদ্দেশ্য থাকলেও এর পেছনে রয়েছে বড় অংকের কমিশন ভাগাভাগির চিত্র।যার পুরোটাই যাচ্ছে শেখ পরিবার ও শীর্ষ আওয়ামী লীগ নেতাদের পকেটে। ফ্যাসিস্টের অর্থনীতির ভিত আরো মজবুত হওয়ার পাশাপাশি বন্দরের মতো স্পর্শকাতর একটি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ থাকবে পলাতক দলটির হাতে। এর ফলে যে কোন সময় নতুন করে শংকা করছেন বিশ্লেষকরা। সবার আগে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ছেড়ে দেওয়া পিসিটির দায়িত্ব পাওয়া সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠানা (আরএস জিটিআইয়ের) লোকাল এজেন্ট শেখ মুজিবুর রহমানের চাচাতো ভাইয়ের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এসএইচ আর শিপিং। আর সম্প্রতি চুক্তিবদ্ধ হওয়া পানগাঁও কন্টেইনার টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়া সুইজারল্যান্ডের প্রতিষ্ঠান মেডলগের ব্যবসায়িক অংশীদার সাবের হোসেন চৌধুরীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান মেডিটেরিয়াল শিপিং কোম্পানি।
নির্মানাধীন লালদিয়ার চর কন্টেইনার টার্মিনালের বাংলা দেশী অংশীদার কিউএন এস সার্ভিসের মালিক শেখ হাসিনার ফুফাতো বোনের স্বামী নুরুল কাইয়ুম খান।
*পিসিটিতে শেখ হাফিজ, পানগাঁওয়ে সাবের হোসেন চৌধুরী।
*লাল দিয়ায় শেখ হাসিনার আত্মীয়র প্রতিষ্ঠান অংশীদার।
*এনসিটিতে আগ্রহী ডিপি ওয়ার্ল্ডের এজেন্টও সাবের হোসেন চৌধুরীর প্রতিষ্ঠান।
*সব নিয়োগ নীতিমালার মাধ্যমে হয়েছে দাবি বন্দর কর্তৃপক্ষের।
চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে আধুনিক কন্টেইনার টার্মিনাল এনসিটির দায়িত্ব নিতে আগ্রহী গ্লোবাল টার্মিনাল অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডের লোকাল এজেন্ট সাবের হোসেন চৌধুরীর মালিকানাধীন এইচ আর শিপিং। আগে ডিপি ওয়ার্ল্ড এর সব কাজ এইচ আর শিপিং করলেও গত তিন মাস ধরে এ প্রতিষ্ঠানের কেউ ডিপি ওয়ার্ল্ডের হয়ে বন্দরে আসেনি। এর মধ্যে ডিপি ওয়ার্ল্ড তার লোকাল এজেন্ট পরিবর্তন করেছে –এমন কোন তথ্য বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে নেই। সূত্র জানিয়েছে, ডিপি ওয়ার্ল্ডের সংগে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে, যা আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। নতুন ইস্যু এড়াতে সাবেরের প্রতিষ্ঠান আপাতত সামনে আসছে না।
চট্টগ্রাম বন্দর সূত্র জানায়, গত ১৭ নভেম্বর রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে জমকানো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের নতুন টার্মিনাল লালদিয়ারচর, কেরানীগঞ্জের গান গাও কন্টেইনার টার্মিনাল পরিচালনার জন্য দুটি বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। সরকারের শীর্ষ মহলের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এ চুক্তি অনুযায়ী আগামী ২২ বছরের জন্য পানগাঁও টার্মিনালের দায়িত্ব দেওয়া হয় সুইজারল্যান্ডের প্রতিষ্ঠান মেডলগ কে আর ৩০ বছরের জন্য লাল দিয়ারচর টার্মিনালের দায়িত্ব পেয়েছেডেনমার্কের প্রতিষ্ঠান এপি মোলার মায়ের্স্ক গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস।বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এসএম মনিরুজ্জামান। বিদেশি দুটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন মেডলগ বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিসুল মিল্লাত এবং এ পি এম টার্মিনালসের ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্টেইল ভ্যান ডোঙ্গেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বিদেশি কোম্পানি গুলোর আড়ালে এ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করবে আওয়ামী পরিবারের প্রতিষ্ঠান গুলোই। এপিএম টার্মিনালসের লোকাল এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ করা হয় কাইয়ুম খানের মালিকানাধীন কিউএনএস কন্টেইনার সার্ভিসকে।
একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, নুরুল কাইয়ুম খান শেখ
পরিবারের জামাই হওয়ায় তিনি বিগত ১৭ বছর চট্টগ্রাম বন্দরকে জিম্মি করে রেখেছিলেন। এ সময় তার মালিকানাধীন কন্টেইনার ইয়ার্ড অন্যান্য ১৮ টি ইয়ার্ডের সমান ব্যবসা করেছে।সরকারি প্রজেক্ট কার্গো হ্যান্ডলিং করেছে একচেটিয়া ভাবে। তার প্রভাব এখনো চট্টগ্রাম বন্দরে বিদ্যমান। চট্টগ্রামের পটিয়া ও আনোয়ারা থেকে নির্বাচন করার ইচ্ছা ও প্রকাশ করেছিলেন তিনি। একই দিনে অনুষ্ঠিত চুক্তিতে বন্দর অপারেশনের দায়িত্ব পাওয়াসুইজারল্যান্ডের প্রতিষ্ঠান ম্যাডলগের বাংলাদেশি এজেন্ট এর নাম মেডিটেরিয়াল শিপিং কম্পানি। যার মালিক আওয়ামী লীগের পতিত মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী। দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতিষ্ঠান দুটি একে অপরকে লজিস্টিক ও ট্রান্সপোর্ট সুবিধা দিয়ে আসছে।
বন্দর সূত্র জানায়, সাবেক সিটি মেয়র আ,জ,ম নাসির উদ্দিন নোয়াখালীর সাবেক এমপি একরামুল ইসলাম পটিয়ার এমপি বিচ্ছু শামসুর প্রভাবে বন্দরের মূল অবকাঠামোতে প্রবেশ করতে পারেনি ঢাকার আওয়ামীলীগ নেতাদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো। পরে অপারেটর নিয়োগের নামে আড়াল থেকে নিজেরাই টার্মিনাল গুলো নিয়ন্ত্রণের ফন্দি আঁটেন সালমান এফ রহমান। পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই প্রথমে নির্মাণ করা হয় পানগাঁও কন্টেইনার টারমিনাল। এরপরই প্রস্তুত করা হয় পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল বা পিসিটি। কিন্তু সবার আগে বিদেশি অপারেটর নিয়োগ করা হয় পিসিটিতে।
তবে যেই লাউ সেই কদু।এখন পর্যন্ত লাভের মুখ দেখেনি
বন্দর কর্তৃপক্ষ। বছরে সরকার হারাচ্ছেন কোটি কোটি টাকার ভ্যাট-ট্যাক্স পক্ষান্তরে ফুলে ফেঁপে পেট ভারী হচ্ছে
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গুলোর। এ অনিয়ম,দুর্নীতি আর অব্যবস্হাপনা কার স্বার্থে?
তথ্যসূত্র:
#দৈনিক আমার দেশ।
#দৈনিক প্রথম আলো।
# দৈনিক কালের কণ্ঠ।
# বিডিনিউজ ২৪. কম।