স্টাফ রিপোর্টার :
টানা এক সপ্তাহ ধরে চলছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের এলপিজি তীব্র সরবরাহ সংকট। এ অজুহাত দেখিয়ে বাজার থেকে উধাও করে দেওয়া হয়েছে গ্যাসের সিলিন্ডার। বিশেষ করে বাসা বাড়িতে রান্নার কাজে ব্যবহৃত ১২ কেজির সিলিন্ডার। রাজধানী ও চট্টগ্রাম নগরীতে এ সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। হন্যে হয়েও গ্যাস সিলিন্ডার খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ ভোক্তাদের।
অন্যদিকে তুরাগ নদীর তলদেশে স্থাপিত গ্যাস মেরামত কালে পাইপে পানি ঢুকে পড়ায় রাজধানীতে গ্যাসের সংকট আরো প্রকট হয়েছে। এর মধ্যে এলপিজির সংকট ভুগাচ্ছে ভোক্তাদের। ভুক্তভোগীদের দাবি তিতাসের লাইনের গ্যাসে চাপ না থাকায় অনেকেই সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। এ শুধু সুযোগ।কাজে লাগিয়ে বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছেন এলপিজি ব্যবসায়ীরা। ভোক্তা দের অভিযোগ তারা ব্যবসায়ীদের কাছে এক ধরনের জিম্মি দশায় আছেন।
গত শুক্রবার বিকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী মাতুয়াইল মেডিকেল এলাকার খুচরা সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রেতা পান্না ট্রেডার্সের দোকান বন্ধ দেখা যায়। রাস্তায় দোকানের এক কর্মীর সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। দোকান খুলে কী করব? তিনি বলেন ডিলারদের কাছে একটা সিলিন্ডারের দাম প্রায় ২১০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা। এত দাম দিয়ে তো কেন সম্ভব নয় এজন্য দোকান বন্ধ আছে।
রাজধানীর তেজতরি বাজার, আজিমপুর, খিলখেত সহ বিভিন্ন এলাকার মহল্লার খুচরা দোকানগুলিতে প্রায় সিলিন্ডার নেই বললেই চলে অনেক দোকান বন্ধ দেখা গেছে। দু এক জায়গায় সিলিন্ডার মিললেও সরকার নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৩০৬ টাকার দ্বিগুণ প্রায় ২৩০০ থেকে ২৫০০ টাকা গুনতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে কনজুমারস এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ এইচ এম সফিকুজ্জামান গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, ভোক্তাদের সঙ্গে সরাসরি প্রতারণা করছেন এলপিজি ব্যবসায়ীরা।
এখানে সরকারের শিথিলতা আছে। তিনি বলেন এলপিজি সিলিন্ডারের ব্যবসা সরাসরি নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়া। এখানে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন গণ শুনানির মাধ্যমে একটা দাম নির্ধারণ করেন।
লিকেজ না সারায় তীব্র গ্যাস সংকট :
তুরাগ নদীর তলদেশে স্থাপিত গ্যাস পাইপ লাইন নোঙরের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর মেরামত কালে পাইপে পানি ঢুকে পড়ায় রাজধানীতে গ্যাসের সংকট আরো তীব্র আকার ধারণ করেছে। এমনিতে শীতকালে গ্যাসের চাপ কম থাকে ফলে সংকট চরম আকার ধারণ করার ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানায় মালবাহী ট্রলারের নোঙরের আঘাতে আমিনবাজার এলাকায় বিতরণ গ্যাস পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেখান থেকে গ্যাসের চাপ কমিয়ে মেরামত কাজ শুরু করা হয়।
গত শুক্রবার তিতাস গ্যাস বিজ্ঞপ্তিতে জানায় সমস্যার সমাধানে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।সাময়িক অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষ।
পাইপ লাইন লিকেজের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে গাবতলী থেকে মোহাম্মদপুর, বসিলা,লালমাটিয়া, ধানমন্ডি জিগাতলা ও আশপাশের এলাকাগুলোতে।গত বুধবার থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে যায়। ছুটির দিনে পরিস্থিতি আরো খারাপ হওয়ায় দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
তথ্যসূত্র:
# তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির অফিসিয়াল বিজ্ঞাপ্তি।
#দৈনিক আমার দেশ সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ।