রোহান রাজিব:মধুমতি ব্যাংকের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির এনআরবিসি ব্যাংক ও উত্তরা ফাইন্যান্স থেকে ঋণ নিয়ে পরিশোধ করছেন না। ফলে প্রতিষ্ঠান দুটি তাকে ঋণ খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ঋণ খেলাপি হয়ে পড়ায় এনআরবিসি ব্যাংক, বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করেছে। ঋণ খেলাপি হলেও হুমায়ুন কবির মধুমতি ব্যাংকের পরিচালক পদে এখনো বহাল রয়েছেন। ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী ঋণ খেলাপি কেউ ব্যাংকের পরিচালক হতে পারেন না। কিন্তু পরিচালক পদে থাকা কেউ ঋণ খেলাপি হলে তাকে অপসারণ করতে পারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নিয়মিত হলে তিনি আবার পরিচালক হতে পারবেন। তবে কেউ ইচ্ছাকৃত খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হলে খেলাপি থেকে অব্যাহতির ৫ বছর পার না হওয়া পর্যন্ত আর পরিচালক হতে পারবেন না। বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর(সিআইবি) তথ্য অনুযায়ী হুমায়ুন কবিরের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান নর্দান হ্যাচারির অনুকূলে এনআরবিসি ব্যাংকে বর্তমানে প্রায় ১১৩ কোটি টাকা ঋণ রয়েছে।
এর মধ্যে প্রায় ৬০ কোটি টাকার ঋণ খেলাপি হয়ে গেছে। আর উত্তরা ফাইন্যান্সে একই প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ প্রায় ২ কোটি ২৩ লাখ টাকা রয়েছে বলে জানা গেছে। এনআরবিসি ব্যাংক গত জুলাই মাসে ব্যাংক কোম্পানি আইনে নোটিশ দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে বিষয়টি জানিয়েছে। নর্দান হ্যাচারীর পরিচালক হুমায়ুন কবিরএবং একই সঙ্গে ঋণের গ্যারান্টার ও তিনি।এই ধারা অনুযায়ী কোন পরিচালক যদি ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হন দুই মাস সময় অতিবাহিত হওয়ার পরেও পরিশোধ না করেন তবে তার পরিচালক পদ শূন্য হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক এই নোটিশ জারি করে ঋণ পরিশোধের নির্দেশ দিতে পারে। এনআরবিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তৌহিদুল আলম খান এই প্রতিনিধিকে জানান, প্রতিষ্ঠানটি ঋণ খেলাপি। আমরা নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের নোটিশ পাঠিয়েছি। সিআইবি তথ্য অনুযায়ী হুমায়ুন কবির নিজ ব্যাংক মধুমতি থেকেও ঋণ নিয়েছেন। তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ইনসেক্টিসাইড এন্টারপ্রাইজ বাংলাদেশ লিমিটেডের ঋণ রয়েছে ৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা। ঋণের মেয়াদ ১৯ নভেম্বরে শেষ হলেও কেন এই প্রতিষ্ঠানকে খেলাটি না করে নিয়মিত দেখাচ্ছে বিষয়টি রহস্যজনক। তাছাড়া ঢাকা আইসক্রিম নামক একটি প্রতিষ্ঠানের ১১৫ কোটি ২৭ লাখ টাকার ঋণের গ্যারান্টার ও তিনি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী মধুমতি ব্যাংকের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরের ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার ৮৫০০ টি শেয়ার রয়েছে। সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে মধুমতি ব্যাংকের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির,বলেন,আমি নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করে যাচ্ছি। আমার কাছে ব্যাংক থেকে এ ধরনের কোন নোটিশ এখনো আসেনি । এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, কোন পরিচালক যদি নিজ ব্যাংক বা অন্য ব্যাংকে ঋণ খেলাপি হন তখন তার তথ্য যাচাই-বাছাই করা হয়। শেষে যদি প্রমাণ পাওয়া যায় ওই ব্যক্তি ঋণ খেলাপি তখন নিয়মঅনুযায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যবস্থা নেবে।