বিনোদন ডেক্স :
রায়বাহাদুর অন্নদা প্রসাদ রায়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল পরগনার জমিদার———
সরাইল অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্টাতা,
ব্রাক্ষনবাড়ীয়া অন্নদা সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্টাতা, অন্নদা প্রসাদ রায়ের ছেলের নামে নাছিরনগর আশুতোষ উচ্চ বিদ্যালয়ের নামকরন, অন্নদা প্রসাদ রায়ের ছেলে আশুতোষ রায়ের নামে আশুগঞ্জ নামকরন। জমিদার অন্নদা প্রসাদ রায় ছিলেন একজন সংস্কৃতিব্যক্তিত্ব,
বিদ্যোৎসাহী, মানবতাবাদী মানুষ ও প্রজাদের বন্ধু ছিলেন।
১৮৫১ সালে অন্নদা প্রসাদ রায় সরাইলে জন্ম গ্রহণ করেন। পিতার নাম রাজকৃষ্ণ রায়। সরাইল জমিদার বংশের পুর্ব পুরুষ জগবন্ধু রায় ছিলেন ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানী কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত কাশিম বাজার রেশম ফ্যাক্টরীর দেওয়ান। জগবন্ধু রায়ের আমল থেকেই এই রায় পরিবারের সদস্যবৃন্দ মুর্শিদাবাদ জেলার কাশিম বাজার রাজ প্রসাদে স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন।
১৮০২ সালে সরাইলের জমিদার গোলাম হোসেন আলী ও নবাব আলী পাঁচ আনা বার গন্ডা অংশ রাজস্ব অনাদায়ের কারনে নিলামে বিক্রি হয়ে যায়। ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানী ময়মনসিংহের কালেক্টরেটের দেওয়ান জগবন্ধু রায় কিনে নেন। সেই সময় থেকে সরাইলে জগবন্ধু রায়ের জমিদারীর গোড়াপত্তন হয়।
১৮৩৬ সালে জমিদারীর সাত আনা অংশ অর্থাৎ ১৭ কোশার জমিদারী অর্থাৎ হরিণবেড় জমিদারের বাকী রাজস্বের দায়ে নিলামে উঠলে জমিদার জগবন্ধু রায়ের পৌত্র নরসিংহ রায় তা ক্রয় করেন।
১৮৮০ সালে ২০ ফেব্রুয়ারী বৃটিশ সরকার অন্নদা প্রসাদ রায়কে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজা রায় বাহাদুর উপাধিতে ভূষিত করেন। এইদিন রাজকীয় অনুষ্টানের আয়োজন করা হলে সেই দিনই জমিদার অন্নদা প্রসাদ রায় ২৯ বছর বয়সে মৃত্যুবরন করেন। জমিদার অন্নদা প্রসাদ রায়ের একমাত্র পুত্র আশুতোষ রায় বারো বছরের বালক ছিলেন।
১৮৭১ সালে জমিদার আশুতোষ রায় তাঁর পিতার নামে সরাইল অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্টা করেন।
১৮৭৫ সালে জমিদার আশুতোষ রায় তাঁর পিতার নামে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া অন্নদা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্টা করেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া রাণী সরজোনী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্টা করেন।
১৮৯৮ সালে আশুগঞ্জ বাজারের গোড়াপত্তন হয়। আশুগঞ্জ প্রতিষ্ঠার পূর্বে এই এলাকার লোকজন পার্শ্ববর্তী ভৈরববাজারে ব্যবসা বানিজ্য করতেন । ভৈরববাজারের মালিক ভৈরব বাবু কর্তৃক আরোপিত অত্যধিক করভারে জর্জরিত হয়ে মেঘনার পূর্ব পাড়ের ক্রেতা-বিক্রেতারা সোনারামপুর মাঠের উপর হাট বসায়। সরাইল পরগনার জমিদার মহারাজা আশুতোষ রায় আশাব্যঞ্জক এ সংবাদ জানতে পেরে তিনি উদ্যোক্তাদের ডেকে পাঠান। উদ্যোক্তাগণ মহারাজার ডাকে সাড়া দিয়ে নিজেদের দুর্গতির অবসানের জন্য মহারাজার নামের সাথে মিল রেখে ঐ হাটকে ‘‘আশুগঞ্জ’’ নামকরণ করেন।
১৯৩৭ সালের ১ জানুয়ারী জমিদার কমলারঞ্জন রায় তাঁর পিতা আশুতোষ রায়ের নাম অনুসারে নাছিরনগর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্টা করেন।
১৯৬৩ সালে অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ ব্রাক্ষনবাড়ীয়া অন্নদা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মেট্রিক পরীক্ষায় সমগ্র পুর্ব পাকিস্তান থেকে প্রথম স্থান অধিকার করেন। সেই অন্নদা উচ্চ বিদ্যালয়ের নাম ছড়িয়ে পড়ে।
১৯৬৮ সালে অন্নদা উচ্চ বিদ্যালয় জাতীয়করন করা হয়।
সরাইলের জমিদার অন্নদা প্রসাদ রায়ের বংশের লোকজন অনেক শিক্ষা প্রতিষ্টান প্রতিষ্টাতার মাধ্যমে গৌরব অর্জন করে গেছেন।
ছবি ও তথ্যসূত্র:
# উইকিপিডিয়া থেকে সংগৃহীত।