জনতার ডেক্স রিপোর্ট :
আলেকজান্ডার ২০২৪ সালে ৭৮ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন। কে এই পল আলেকজান্ডার? তিনিই ছিলেন পৃথিবীর শেষ দিকের মানুষদের একজন যিনি “আয়রন লাঙ” নামক এক বিশাল নলাকৃতি যন্ত্রের ভেতরে প্রায় সত্তর বছর ধরে বেঁচে ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর এখন কেবলমাত্র Martha Lillard (ওকলাহোমা, USA) এই যন্ত্রে বেঁচে আছেন।
মাত্র ছয় বছর বয়সে, টেক্সাসে ১৯৫২ সালের ভয়াবহ পোলিও মহামারির সময় পল এই রোগে আক্রান্ত হন। ভাইরাসটি তাঁর ঘাড়ের নিচের অংশকে পক্ষাঘাতগ্রস্ত করে দেয় এবং তাঁকে নিজের শ্বাস-প্রশ্বাস নেবার ক্ষমতাহীন করে ফেলে। তখনও পোলিও ভ্যাওকসিন আসার মাত্র তিন বছর মাত্র বাকি, যদিও ট্রায়াল শুরু হয়ে গেছিল।
যাই হোক, চিকিৎসকেরা তাঁকে তখনকার দিনের ভেন্টিলেটার ‘আয়রন লাঙে’ স্থানান্তর করেন। পলের এক দীর্ঘ জীবনের যাত্রা শুরু হয় সেই ইস্পাতের আবরণে বন্দী সেই যন্ত্রে, যা তাঁর কাছে ছিল একইসাথে কারাগার এবং রক্ষক।
পরে আধুনিক ভেন্টিলেটরে পরিবর্তন করার সুযোগ থাকলেও, তাঁর শারীরিক অবস্থা, অভ্যস্ততা আর বিশেষ যন্ত্রপাতি সামঞ্জস্যের কারণে তিনি আজীবন iron lung-এ থেকে গেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে যন্ত্রটি আর তৈরি হয় না, কেবল পুরোনো মেশিন রিপেয়ার করিয়ে চালু রাখা হতো। এমনকি তাঁকে সাহায্য করার জন্য বিশেষজ্ঞ মেকানিকরা নিজে হাতে iron lung-এর যন্ত্রাংশ বানিয়ে দিতেন।
শারীরিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও পল ছিলেন অদ্ভুত সাহসী এবং দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। মুখে একটি প্লাস্টিকের স্টিক ধরে তিনি লেখালিখি শিখেছিলেন; পরে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করে একজন অনুমোদিত আইনজীবী হন। তিনি Three Minutes for a Dog নামের একটি আত্মজীবনীও লিখেছিলেন—যার প্রতিটি তিনি শব্দ মুখ দিয়ে টাইপ করেছিলেন।
পলের এই জীবন সংগ্রাম তাঁকে পরিণত করেছে সহনশীলতা, মর্যাদা এবং মানব আত্মার শক্তির প্রতীক হিসেবে। প্রখর বুদ্ধিমান আর রসিক এই মানুষটির কথা শুনতে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে বন্ধুবান্ধব ও অনুসারীরা দলে দলে এসেছেন, মুগ্ধ হয়েছেন, অনুপ্রাণিত হয়েছেন। তাই তাঁর মৃত্যু শুধু একটি জীবনের সমাপ্তি নয়, চিকিৎসা ও মানব ইতিহাসের একটি অধ্যায়েরও সমাপ্তি। আয়রন লাঙে কাটানো তাঁর দীর্ঘ দশকগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় পোলিওর ভয়াবহতা এবং কিন্তু সঙ্গে মনে করায় বিজ্ঞানের তথা আধুনিক ভ্যাকসিনের আশ্চর্যজনক শক্তিকে।
জোনাস সলকের নেতৃত্বে ১৯৫২ সালে প্রথম পরীক্ষামূলক টিকা তৈরি হয় এবং ১৯৫৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৮ লক্ষ শিশুকে নিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম ফিল্ড ট্রায়াল হয়। এর সফল ফলাফলের পর পরের বছরই ১৯৫৫ সালে সল্কের টিকা অনুমোদিত হয় এবং ব্যাপকভাবে ব্যবহার শুরু হয়। কিছু বছর পর ১৯৬১ সালে আলবার্ট স্যাবিন তৈরি করেন ওরাল পোলিও ভ্যাকসিন (OPV), যা সহজে খাওয়ানো যেত এবং বিশ্বজুড়ে দ্রুত জনপ্রিয়তা পায়। এই দুই ধরনের টিকা বিশ্বব্যাপী পোলিওর প্রকোপ নাটকীয়ভাবে কমিয়ে দেয় এবং ১৯৮৮ সালে WHO গ্লোবাল পোলিও নির্মূল উদ্যোগ শুরু করে, যার ফলে আজ বিশ্বের ৯৯% অঞ্চল পোলিওমুক্ত।
পোলিও ভাইরাস একটি RNA virus , যার ভ্যাকসিন তৈরী ১৯৫২ সালে সম্ভব হয়েছিল। দু বছরে ট্রায়াল শেষ করে তিন বছরের মাথায় ব্যবহার শুরুও করা হয়েছিল।
বি.দ্র.একটি সংগৃহীত তথ্য।