প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলী আসগর:
পিনাকী ভট্টাচার্য যে অর্থলিপ্সু, তা তার পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালসের কালাজ্বরের ওষুধে ময়দা মিশিয়ে দুই শতাধিক মানুষ মেরে ফেলার মাধ্যমে প্রমাণিত। আমি এক টাকা দুর্নীতি করেছি প্রমাণ করতে পারলে সেদিনই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি থেকে পদত্যাগ করবো। ওপেন চ্যালেঞ্জ করলাম।পিনাকী ও আমি প্রায় ৮ বছর রাজশাহী শহরে একই ছাত্র সংগঠনের রাজনীতি করেছি। আমি এখন তাকে ফোন করলে আমার কুস্বার্থ থাকলে, তা লাভ করতে পারবো। জুলাই/২৪ আন্দোলন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম ব্যবহার করে কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরু হয়। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর বাড়ি ভাংচুরসহ সবই করা হলো, এটা তো ইহুদিদের মতো মুনাফেকি। আমি সেই কোটা সংস্কারের পক্ষের মানুষ। যারা স্বেচ্ছায় ভালোর জন্য ও দেশের জন্য জীবন দেন, তাদের আমরা শিরোমনি করে রাখবো। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য বা জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণের জন্য – তাদের পরিবারের অযোগ্য হলেও, যোগ্যদের ডিঙিয়ে সূযোগ সুবিধা পাবে, তা অন্যায়। যে অনায্যের বিরুদ্ধে কোটা সংস্কার আন্দোলন হয়েছিলো ও অসংখ্য মানুষ জীবন দিল, সেই একই অনায্য কি জুলাই/২৪ গণঅভ্যুত্থানের পরে ঘটে কাউকে অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া হয়নি? আওয়ামী লীগ শাসনামলে দীর্ঘ মেয়াদে বিশাল আকারে দুর্নীতি ঘটেছিলো, ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়েছিল – জুলাই/২৪ আন্দোলনের পরে কি অন্তর্বতী সরকারের কোন উপদেষ্টা বা কোন উপদেষ্টার পিএস কি দুর্নীতি করেনি? জুলাই/২৪ অভ্যুত্থানের পরে ফ্যাসিবাদী কায়েদায় বিচার বহির্ভূত ভাবে সিনিয়র নাগরিকের গলায় জুতার মালা পড়ানো হয়নি? সবচেয়ে বড় বিষয়ে – দেশের বামপন্থী, মধ্যপন্থী ও ডানপন্থীরা জুলাই/২৪ আন্দোলনে একত্রে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়েছিলকিন্তু জুলাই/২৪ আন্দোলনে সফল হওয়ার পরেআন্দোলন কারী বামপন্থী ও মধ্যপন্থীরা অনেকটা নিউক্লিয়াসের বাহিরে চলে যায়, জাতীয় সঙ্গীত মুছে ফেলতে ডানপন্থীরা নিউক্লিয়াসে চলে এসে পাকিস্তান বানানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। এই পাকিস্তান পন্থীরা একটি ইস্যু চায়, যা দিয়ে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে কোনঠাসা করা যায়। যেমন – জুলাই/২৪ গণঅভ্যুত্থানের পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক আবাসিক হলে কুরআন শরীফ পোড়ানো হয়। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের অস্তিত্ব যখন ছিলো না, কে কুরআন শরীফ পোড়াল? সনাতন ধর্মালম্বীরা তো এমনিই আতংকিত অবস্থায় আছে, তারা কি কুরআন শরীফ পোড়ানোর সাহস পাবে? তারপর তদন্তে যে ধরা পড়লো, সে নাকি পাগল! একটি পাগল ২/১ ঘন্টার মধ্যে এতগুলো আবাসিক হলে বাধাহীনভাবে কুরআন শরীফ পুড়িয়ে ফেললো? তাহলে তো সে পাগল নয়, জিনিয়াস ক্রিমিনাল। আসলে এটা ছিলো ভারত বিরোধিতার ইস্যু জিইয়ে রাখার চেষ্টা।
ওসমান হাদি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভারতের বিরোধিতা করতো। আমি একটি নিউজ পড়ে চমকে উঠেছি, যে ছাত্রলীগ নেতা, ওসমান হাদি কে হত্যা করেছে বলে পত্রিকায় নাম এসেছে, তাকে জুলাই অভ্যুত্থানের পরে অস্ত্র রাখার জন্য গ্রেফতার করে ৬ মাসের জামিন দেওয়া হয় এবং পরে আবারও এক বছর জামিন দেওয়া হয়। আমার প্রশ্ন – যেখানে তার চেয়ে কম অপরাধে অনেকে জামিন পায়নি বা পাচ্ছেন না, সেখানে কি কারণে ওসমান হাদির হত্যাকারী জামিন পেয়ে, খুন করে, সহজে ভারতে চলে গেল? ওসমান হাদিকে যারা ভালোবাসেন, প্লিজ চিন্তা করেন কারণটা কি?
আমি যেমন মুসলমান, তেমনই খাঁটি বাঙালী। আমি আগামী গণভোটে ‘হ্যা’ ভোট দিলে আমার বাঙালী জাতীয়তাবাদ সংকটে পড়বে। কিন্তু “না’ ভোট দিলে আমার ইসলাম ধর্ম ও বাঙালী জাতীয়তাবাদ কোনটাই সংকটে পড়বে না। গত ৫৪/৫৫ বছরে তো এই ধরনের গণভোট হয়নি, ইসলাম ধর্মের কি কোন ক্ষতি হয়েছে?
তথ্যসূত্র: প্রফেসর,আলী আজগর এর পেজবুক পোস্ট থেকে সংগৃহিত।
বি.দ্র. তিনি একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, রাজনীতি বিশ্লেষক ও বুদ্ধিজীবী।