মো: ফজলে এলাহি :
নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার মোজাফফরপুর ইউনিয়নের হারুলিয়া গ্রামে মোঘল আমলে নির্মিত ঐতিহাসিক হারুলিয়া জামে মসজিদের চুরি যাওয়াড় প্রত্নতাত্ত্বিক রত্ন উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (৩১ আগস্ট) দুপুর ১টা ২০ মিনিটে মসজিদ কম্পাউন্ডে আয়োজিত আধাঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচিতে অর্ধশতাধিক মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, স্থানীয় যুবক ইমরান আহমেদ ভূঁইয়া ও এবি সুমন। তারা অভিযোগ করেন, ২০১৪ সালে ঘটে যাওয়া এ প্রত্নরত্ন চুরির ঘটনায় প্রশাসন শুরু থেকেই উদাসীন ছিল। তৎকালীন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবে মামলার অগ্রগতি ব্যাহত হয় এবং ভুক্তভোগীদের অভিযোগ দাখিলে নানা বাধা দেওয়া হয়।
বক্তারা জানান, সম্প্রতি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর গ্রামবাসী গত ২৭ জুলাই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরসহ ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের কাছে আবেদন জানালেও আজ পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। এ ছাড়া রত্ন হারানোর পর গ্রামের কিছু মানুষের হঠাৎ অস্বাভাবিক সম্পদ বৃদ্ধির বিষয়েও দুদকে অভিযোগ দেওয়া হলেও তাতেও কোনো সুরাহা হয়নি।
মানববন্ধনে দ্রুত তদন্ত কার্যক্রম শুরুর মাধ্যমে হারানো প্রত্নরত্ন উদ্ধারের জোর দাবি জানান স্থানীয়রা।
প্রায় ৮২০ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হারুলিয়া মসজিদ ইসলামি স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন। মোঘল আমলে ধর্মপ্রাণ শাইখ মোহাম্মদ ইয়ার ১২০০ খ্রিস্টাব্দে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। ঐতিহাসিক সূত্র মতে, মসজিদের দেয়ালে খোদাই করা ফার্সি লিপি এর প্রমাণ বহন করছে। ৭ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত এ স্থাপনাটিতে রয়েছে বিশাল গম্বুজ, চার কোণায় স্তম্ভ ও শৈল্পিক কারুকাজ।
এখন অবহেলা আর কালের বিবর্তনে জরাজীর্ণ এ মসজিদ সংস্কার ও সংরক্ষণের দাবিও তুলেছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শেষে রিপোর্ট এসপি অফিসে পাঠানো হয়েছে। যেহেতু ঘটনাটি অনেক পুরনো, তাই উদ্ধার কঠিন হলেও পুলিশ তদ্বিষয়ে সচেষ্ট রয়েছে।
বি.দ্র. প্রতিবেদক,একজন হাইস্কুল শিক্ষক ও
সমাজ উন্নয়ন কর্মি।