মো: জাহাঙ্গীর আলম জনি:আসসালামু আলাইকুম,
পুলিশ সম্পর্কে যাদের ধারণা নেই তারা একটু কষ্ট করে পড়ে নিবেন শ্রদ্ধেয়, সম্মানীত পাঠক। এটি পড়ার পর আপনার কাছে মনে হতে পারে, জিবনে কি পড়াশোনা করলাম; যে শব্দটা সবচেয়ে বেশি উচ্চারণ করলাম; সে শব্দটার অর্থই জানতাম না !!! যদি এমনটাই হয়ে থাকে তবে ব্যর্থ আপনার বড় বড় ডিগ্রী…….
আসা যাক মূল পর্বে, POLICE ধারণাটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের। পুলিশ বিহীন রাষ্ট্র নেই বললেই চলে। এখানে ৬টি অক্ষর দেখে আপনি কেবল তার উচ্চারণ বলতে পারবেন; কিন্তু পূর্ণরূপ হয়তো আপনার জানা নাও থাকতে পারে বা POLICE এর সংজ্ঞাও আপনি নাও জানতে পারেন।
জেনে নিন,
‘Police’ শব্দটি মূলত পুরনো ফরাসি শব্দ ‘Polic’ বা লাতিন শব্দ ‘Politia’ থেকে এসেছে, যার অর্থ ‘প্রশাসনিক শৃঙ্খলা।
যদি বাক্যের মাধ্যমে বলতে হয় তবে, Public Officer for Legal Investigations and Criminal Emergencies অর্থাৎ জনস্বার্থে নিয়োজিত অফিসার যিনি জরুরী প্রয়োজনে ও তদন্তে নিয়োজিত থাকবেন।
এসব যদি আপনার কাছে কঠিন লাগে তবে সহজভাবে ৬টি অক্ষরের পূর্ণরূপ জেনে নিতে পারেন। যেমন-
P = Polite (নম্র, ভদ্র)
O = Obedient (বাধ্য, অনুগত)
L = Loyal ( বিশ্বস্ত)
I = Intelligent (বিচক্ষণ, বুদ্ধিমান)
C = Courageous (সাহসী, নির্ভীক)
E = Efficient (দক্ষ)
(সাথে বাংলা দিয়ে দেয়ার কারণ হলো; অনেকে ইংলিশ মিডিয়ামের উচ্চ শিক্ষিত থাকতে পারেন; যদি বাংলা না বুঝেন !!) ।
যাই হোক, পুলিশের তিনটি স্তরে নিয়োগ হয়-১। কনস্টেবল (এসএসসি) ২। এসআই (স্নাতক বা সমমান) ৩। এএসপি (বিসিএস ১/২ চয়েস থাকে সবার)।
১৮-২০ বছরে কনস্টেবল নিয়োগ হওয়ার কারণে তারা ৯৫%-ই উচ্চ মাধ্যমিক পাস। বর্তমানে জিপিএ 5 (I m GPA 5 না কিন্তু) প্রাপ্তরাও কনস্টেবল পদে ভর্তি হতে পারে না; সার্বিকভাবে চূড়ান্ত না হলে।
৯৫% এর মধ্যে ৫০%ই পড়াশোনা চালিয়ে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করে থাকে।
এসআই’দের নিয়োগের যোগ্যতা আমার চেয়ে আপনারাই ভাল জানেন; কারণ সেটা নিয়োগ পরীক্ষা আসলেই আমরা দেখতে পারি।
অপরদিকে আমাদের সম্মানিত সিনিয়র স্যার যারা আছেন অর্থাৎ বিসিএস ক্যাডারের মাধ্যমে যারা আসেন তাদের মধ্যে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যারিস্টার কিন্তু অনেক রয়েছেন। সুতরাং, অহংকার না করে সকলকে সম্মান করতে শিখুন। সব শিক্ষাই কিন্তু একাডেমিক হয় না; কিছু শিক্ষা পারিবারিকও হয়-যেটা আপনি লুকিয়ে রাখতে পারবেন না; পারবেন না; না এবং না; আপনার কাজ কর্মের মাধ্যমে প্রকাশ পাবেই।
বেআইনী সমাবেশ একটি ফৌজদারি অপরাধ, পেনাল কোডের ১৪১ ধারা এবং উগ্রতা প্রকাশের পর সেটি ১৪৬ ধারা মোতাবেক দাঙ্গা হিসেবে চিহ্নিত। এক্ষেত্রে পুলিশ অফিসার ফৌজদারি কার্যবিধি ১২৭-১২৮ ধারা এবং পুলিশ প্রবিধানের ১৪২-১৪৩ বিধি অনুসরণ করে ছত্রভঙ্গ করবে। সেক্ষেত্রে পেনাল কোডের ১০০ ধারা এবং পুলিশ রেগুলেশন্স ১৫৩ বিধি অনুযায়ী প্রয়োজন মোতাবেক আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারেরও আইনগত বৈধতা আছে। তবে এটাও স্বীকার করছি যে, যদি আইনের বাহিরে গিয়ে কোন কাজ করে তার দায় তাকে ব্যক্তিগতভাবেও বহন করতে হবে।
পরিশেষে একটা উদাহরণ দিতে চাই,
আমি কনস্টেবলে ভর্তি হয়ে আজকে বাংলাদেশের একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে এলএলএম ডিগ্রী অর্জন করেছি। ভারতের ন্যাশনাল ফরেনসিক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণের অংশগ্রহণ করে দেখেছি তারা কতটা এগিয়ে আছে। জাতিসংঘের মত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ১৫ মাস করেছি। সুতরাং, কাউকে ছোট করে কথা বলার আগে নিজের অবস্থানটা ভাল করে জেনে নিবেন।
বি.দ্র.প্রতিবেদক-
মো: জাহাঙ্গীর আলম (জনি)
সাব-ইন্সপেক্টর
বিএ-এলএলবি, এলএলএম (JKKNIU)
ফরেনসিক-Biology & Serology (India)
Former Member of UN (2019-2020)
FLT in English (Edu. Ministry BD)
DMP, Dhaka